SHARE

আজ আমি আপনাদের ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে সহজ করে করবেন, সে বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করছি। আপনি যদি, সুন্দর পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করে থাকেন তাহলে কাজ হবে আরও সহজ ও গতিশীল। যে কোন কাজই পরিকল্পনা ছাড়া করলে সে কাজ স্থায়ী ও মজবুত হয় না।

১. লক্ষ্য নির্ধারন:

আপনার প্রথম লক্ষ্য হল যে, সুনির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য নির্ধারন করা। আমাদের মাঝে অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই কোন লক্ষ্য নির্ধারন না করে কাজ শুরু করে দেয়। প্রত্যকটি লক্ষ্য হতে হবে অবশ্যই নির্দিষ্ট। কোন রকম দ্বিধা থাকা যাবে না। লক্ষ্যবিহীন জীবন যেমন হাল বিহীন নৌকার মত, তেমনি কোনও কাজেই সফলতা আসেনা।যদি, ইমেইল লিস্ট বৃদ্ধি করতে চান, আপনার ইমেইল লিস্ট ৩০০০ এ পূর্ন করবেন।মার্কেটিং প্লান এর ভিত্তি একটি সুনির্দির্ষ্ট লক্ষ্য। কৌশল থেকেও নতুন মার্কেটিং পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবেন। আপনি, গত বছরের লক্ষ্য কতটুকু অর্জন হয়েছে তা নির্ধারন করুন। কিছু সমসসা হতে পারে যেমন, লক্ষ্য কি ঠিকভাবে নির্ধারন হয়েছিল কি না, কোন কোন সমস্যার কারণে লক্ষ্য অর্জনে বাধা এসেছে কিনা, লক্ষ্য কতটুকু অর্জন হয়েছে তা নির্ধারন করুন। এসব, ভালো জেনে লক্ষ্য স্থির করুন।

২. লক্ষ্যকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করুনঃ

পূর্বের পরিকল্পনা বা কৌশলের বিশ্লেষণই আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে কোথায় আপনার ব্যবসায় রয়েছে এবং আপনি কোথায় যেতে চান। এই সকল তথ্যগুলো আপনার শক্তি হিসেবে কাজ করবে। এই বিষয়গুলো নিয়ে পরিপূর্ন ভাবে বিশ্লেষণ করুন এবং গুরুত্বপূর্ন বিষয় গুলো চিহ্নিত করুন।

২. লক্ষ্যকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করুনঃ

আপনি সহজে পরিচালনা এবং সহজতর করতে সেই লক্ষ্যটাকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করতে পারেন। বিস্তারিত ভাবে বলি, আপনি যদি লক্ষ্য নির্ধারন করেন চলতি বছরের মধ্যে ৫০০০ ইমেইল লিস্ট তৈরি করবেন তাহলে তাকে ছোট করুন। মার্চ মাসের মধ্যে ৫০০০ ইমেইল সাবস্ক্রাইবার সংগ্রহ করুন। ৫০০০  ইমেইল সাবস্ক্রাইবার তৈরি করতে আবার কি কি করতে হবে তা পর্যায়ক্রমে আলাদা করুন। নিচে দেখে নিন……

  • ৫ মাসের প্রোগ্রেসের দিকে লক্ষ্য করতে হবে। ৫ মাসের মধ্যে সাবস্ক্রাইবার কেমন হয়েছে এবং আবার আন সাবস্ক্রাইব কেমন হয়েছে তা নির্ধারন করতে হবে।
  • একটি অটোমোটেড ইমেইল তৈরি করুন ক্যাম্পেইন তৈরি করতে হবে এবং সেই ইমেইল কো সাবস্ক্রাইবারদের দেওয়ার জন্য কোন ফ্রী প্রোডাক্ট সিলেক্ট করা যায়। কোন সময় পরপর বা কত দিন পরপর পাঠাতে হবে।
  •  প্রথমে একটি ল্যান্ডিং পেইজ তৈরি করতে হবে।

পুরুনো পরিকল্পনাকে উন্নত করুন। আপনি ইতিমধ্যে অনেক কিছু জানেন। তবে প্রথমে আপনাকে পুরোনো পরিকল্পনাকে মূল্যায়ন করতে হবে। যেমনঃ

* কোন কৌশলটা আপনার ব্যবসায়ের জন্য কাজ করেছে এবং আপনার ব্যবসায়ে উন্নয়ন এনেছে?
* কোন পরিকল্পনা বা কৌশল আপনার ব্যবসায়ের জন্য সর্বোচ্চ লাভজনক হয়েছিল?
* আপনার মার্কেটিং এবং বিজ্ঞাপনের প্রতি কাস্টমারদের ফিডব্যাক কেমন?
* কোন ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল বা পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হয়েছে?
*  গত বছর আপনার ব্যবসায়ের কেমন পরিবর্তন হয়েছে?
* আপনার টার্গেট মার্কেটের কি কোন পরিবর্তন হয়েছে?
*  আপনার প্রতিযোগীরা কেমন করছে?

 ৩. প্রয়োজনীয় টুল সিলেক্ট করুনঃ

আপনাকে ভাবতেই হবে, কোন কোন টুল ব্যবহার করবেন ? কোন টুল কোন কাজে ব্যবহার হবে। নিচে লক্ষ্য করুন………

কন্টেন্ট হল মার্কেটিং এর প্রধান হাতিয়ার। কন্টেন্ট তৈরি করতে সময় বেশি লাগে। কোন কিছু লিখতে গেলে আমরা অনেক সময় কি লিখব তা খুজে পাই না। ফলে সময় নষ্ট হয়। এই কন্টেন্ট আইডিয়া পেতে বিভিন্ন ধরণের টুল রয়েছে। যেমনঃ whattowrite,  Buzzsumo, inbound writer ইত্যাদি। আপনার সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর কাজ সহজ করতে রয়েছে বিভিন্ন টুল যা আপনার পোষ্ট গুলো কে সিডিউল করতে সাহায্য করবে। এতে করে, আপনার কাজ সহজ হয়ে যাবে এবং কম সময়ে দ্রুত কাজ করা যাবে। এই ধরণের টুল গুলোকে সিলেক্ট করতে হবে।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য বিভিন্ন ক্যাম্পেইন করতে হয়। এই ক্যাম্পেইন গুলো সহজেই পরিচালনা করা যায় টুল দ্বারা। বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেট ৩য় পক্ষ(টুল) ব্যবহার করা পছন্দ করে না, তাই মার্কেট থেকে টুল ব্যবহার না করে যতটুকু কাজ করা যায় তা অবশ্যই করবেন, যা করা যাবে না তার জন্য ৩য় পক্ষ এর সাহায্য নিবেন।

৪. মার্কেটিং পরিকল্পনাকে রিফাইন করুনঃ

যখন আপনার মার্কেটিং পরিকল্পনা বা কৌশল তৈরি হয়ে যাবে তখন তা একবার রিফাইন করে নিবেন। যে টুল গুলো নির্দিষ্ট করেছেন সেই টুল গুলোও আবার নির্দিষ্ট করুন। গুরুত্বপূর্ন বিষয় গুলোর দিকে বেশি বেশি লক্ষ্য রাখুন। যেমনঃ দেখুন কন্টেন্ট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে কি সোশ্যাল পোষ্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নাকি ব্লগ লেখাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আপনার ব্লগে কেমন পোষ্ট রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী কত পোষ্ট করা উচিত। সোশ্যাল মিডিয়াতে দিনে কতবার পোষ্ট করবেন, একবার নাকি তিন বার? আপনার টার্গেট অডিয়েন্স কি জানতে চায়? তাদেরকে কিভাবে তথ্য প্রদান করবেন? ইনফোগ্রাফিক্স, ব্লগ পোষ্ট নাকি ই-বুক?
ব্রান্ডিং এর জন্য কিভাবে কাজ করবেন? আপনার প্রতিযোগী কি অনেক বেশি? ব্রান্ডিং এর উপর কতটুকু গুরুত্ব দেওয়া উচিত এবং কতটুকু গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়িক ব্রান্ড এর সাথে সাথে কি ব্যক্তিক ব্রান্ড এর দিকে নজর দেয়া উচিত?
আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং পরিকল্পনা কি আপনার লক্ষ্যকে অর্জন করতে উপযুক্ত? ইত্যাদি প্রশ্নের মাধ্যমে আপনার পরিকল্পনাটিকে রিফাইন করে নিন।

৫. মার্কেটিং প্লান কে ফাইনাল করুন

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার মাধ্যমে আপনি সহজেই আপনার মার্কেটিং পরিকল্পনাকে ফাইনাল করতে পারবেন। আপনি বুঝতে পারবেন আপনার মার্কেটিং পরিকল্পনা সঠিক ভাবে তৈরি হয়েছে কি না।

৫. মার্কেটিং প্লান কে ফাইনাল করুনঃ

এখন আমি আপনাদের জানাচ্ছি, কি ভাবে মার্কেটিং প্লান ফাইনাল করবেন। নিম্নে লক্ষ্য করুন……

** লক্ষ্য কি নির্ধারন করা হয়েছে?

** আপনার কাস্টমার কোন ধরণের মানুষ এবং তারা কি চায়?
** কন্টেন্ট মার্কেটিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর জন্য আপনি কি কি করছেন?

** কিভাবে আপনার ব্রান্ড সকল প্রতিযোগী থেকে এগিয়ে থাকবে?
** কিভাবে আপনি আপনার কাস্টমারকে আকর্ষিত করবেন?
**  কিভাবে আপনার সাথে আপনার কাস্টমারকে যুক্ত করবে?

আপনার জন্য যেহেতু এটি একটি ডিজিটাল মার্কেটিং এর সফলতার পূর্বশর্ত  হল মার্কেটিং প্লান। তাই, আপনাকে পরিপূর্ণ কোন সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া ডিজিটাল মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY