লোকাল ব্যবসায়ের জন্য কিভাবে ইন্সটাগ্রামে মার্কেটিং করা যায় ?

লোকাল ব্যবসায়ের জন্য কিভাবে ইন্সটাগ্রামে মার্কেটিং করা যায় ?

ফেসবুকের মত আর এক জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া হল ইন্সটাগ্রাম। সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে ছবি শেয়ারের জন্য এই গত ৬ বছরে খুব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। Coca-Cola, National Geographic Channel প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকের সাথে সম্পর্ক তৈরি করার জন্য এসব মাধ্যমকে ব্যবহার করছে। আমরা এর মাধ্যমে দ্রুত কাজ ও খুব সহজে ব্যবহার করতে পারব। পরিসংখানে দেখা যায়, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে ফেসবুক থেকে ১৫ গুন এবং টুইটার থেকে ২০ গুন বেশি এঙ্গেজমেন্ট হয়।এই সুযোগ থাকায় আপনি খুব সহজেই ইন্সটাগ্রাম  মার্কেটিং করে ভালোভাবে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। অনেকের ধারনা,ইহা লোকাল  মার্কেটের জন্য নয়, ইন্সটাগ্রাম শুধু গ্লোবাল মার্কেটিং এর জন্য ব্যবহার করা যায়। আসলে, এটা ভ্রান্তি ধারনা। আজ আমি আপনাদের ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে কিভাবে লোকাল ব্যবসায়ের জন্য মার্কেটিং করা যায় সেই টপিকস নিয়ে আলোচনা করছি……

১. Bio তে আপনার লোকেশন যুক্ত করুনঃ

প্রথমেই আপনাকে ইন্সটাগ্রাম একাউন্টের Bio ব্যবসায়ের অবস্থান অনুযায়ী তৈরি করতে হবে।
কোন বিষয় নিয়ে সার্ভিস প্রদান করবেন তা ভেবে ঠিক করে ফেলুন। মনে করুন, আপনি ডেসক্রিপশনে আপনার শহর বা মার্কেটিং নিয়ে কাজ করতে পারেন!

২. লোকাল ইমেজ পোষ্ট করুনঃ

আপনি যে কাজই করুন না কেন, আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্স তা জানতে হবে। ইহা, প্রতিটি মার্কেটিং এর সফলতার একটি চাবি। আপনি যদি লোকাল ব্যবসায়ের জন্য মার্কেটিং করেন, তাহলে আপনাকে লোকাল জনপ্রিয় স্থানের ছবিগুলো পোষ্ট করতে হবে।ইউজারদের মনোযোগ আকর্ষন করা যায় বিভিন্ন লোকাল ছবি গুলো দ্বারা। আপনার পণ্যের সাথে সম্পর্কিত লোকাল ছবিও পোষ্ট করতে পারেন।  এভাবে আপনি কাস্টমারের মাঝে এই ধরণের বিশ্বাস জন্মে যে। আপনাকে নিয় তারা গর্বিত। সবচেয়ে ভালো হয়, ছবির সাথে ছবির লোকেশান যুক্ত করা, এটি হ্যাসট্যাগ এর চাইতেও বেশি কার্যকর বর্তমানে।

৩. ভিডিও পোষ্ট করুনঃ

বিভিন্ন ভাবে রিসার্চে দেখা গেছে, ভিডিও ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং এ ইমেজের চেয়ে ২ গুন বেশি কার্যকর। তাই, আপনার ব্যাটার হবে এই সুযোগটিও গ্রহন করা। কিছু ভিডিও ছাড়তে পারেন যা আপনার লোকাল স্থানের সাথে সম্পর্কিত। তাতে আপনি অনেকের মাঝে বিশ্বস্ত হয়ে উঠবেন।

৪. স্থান কেন্দ্রিক “#” ট্যাগ গুলো ব্যবহার করুনঃ

আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে, আপনার পোস্টটি সঠিক মানুষের কাছে “#” ট্যাগ এর মাধ্যমে পৌছাবে। আপনার সব পোষ্টে স্থান কেন্দ্রিক জনপ্রিয় “#” গুলো ব্যবহার করুন। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি যে, মিরপুর আপনার ব্যাবসায়ের অবস্থান। আপনি #mirpur  ব্যবহার করতে পারেন।

৫. অন্যান্য লোকাল ব্যবসায়গুলো কে ফলো করুনঃ

আপনার এলাকার অন্যান্য জনপ্রিয় ব্যবসায়কে ফলো করেন বা কোন উল্ল্যখযোগ্য ব্যক্তিকে ফলো করেন তাহলে, আপনার লোকাল এলাকার কাস্টমারদের কমিউনিটিতে সহজে প্রবেশ করতে হবে। আপনি, তাদের সাথে এঙ্গেজ হন। আপনি তাদের ফলোয়ারের কাছে লক্ষ্যনীয় হয়ে উঠবেন এবং আপনার পণ্য বা সার্ভিস সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা তৈরি হবে।বুঝিয়ে বললে এভাবে বলা যায় যে, হাই-প্রোফাইল ব্যক্তির সফলতায় কমেন্টের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান, ছবিতে লাইক দিন। এতে, তারাও আপনার আপনার ছবিতে লাইক কমেন্ট করবে। এভাবেই তাদের ফলোয়ারের কাছে পৌছে যাবে।

৬. লোকাল ব্রান্ড এম্বাসেডার নিয়োগ করুনঃ

আপনি হয়ত জানেন, বিশেষ করে পণ্য প্রচারের জন্য এম্বাসেডার নিয়োগ করে কোম্পানীগুলো। পণ্যের প্রচারের জন্য আপনি  লোকাল জনপ্রিয় ব্যক্তিকে নিয়োগদিতে পারেন। আপনার পণ্যের জন্য খুব কার্যকরী মার্কেটিং হবে তখনই, যখন আপনার পণ্য সম্পর্কে মানুষের কাছে তুলে ধরবেন, আপনার পণ্যের প্রশংসা করে এবং তা ইন্সটাগ্রাম সহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতে পোষ্ট করেন।

৭. টপ কাস্টমারের ছবি প্রকাশ করুনঃ

কিছু কমন কাস্টমার থাকে, যারা সব সময় আপনার থেকেই পণ্য কিনে থাকেন। আপনার টপ বায়িং কাস্টমারের ছবি ইন্সটাগ্রামে পোষ্ট করুন। আপনি এর মাধ্যমে লোকাল অন্যান্য কাস্টমার উৎসাহিত হবে।

৮. সঠিক সময়ে পোষ্ট করুনঃ

আপনি  কোন পোষ্ট বা মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে সময়কে সর্বদা সতর্কভাবে নিতে হবে। অনেকে সময়ের প্রতি সতর্ক না হয়ে ইচ্ছে মত পোষ্ট করে। এতে করে পোষ্টে তেমন ভালো এঙ্গেজমেন্ট তৈরি হয় না। তাই প্রথমে দেখুন কোন সময়ের পোষ্টগুলোতে বেশি এঙ্গেজমেন্ট হয়, তখন পোষ্ট করুন।আপনি এসব ভালোভাবে যখন দক্ষতা অর্জন করবেন, তাহলেই সফলতার মুখ দেখতে পারবেন!