SHARE

আপনাদের জন্য আজ গুরুত্বপূর্ণ টপিকস নিয়ে আলোচনা করছি, যা আপনাদের সকলকেই ভালো লাগবে! প্রথম অধ্যায় এ আমরা জানবো, একটা প্রফেশনাল কাজ করার জন্য আমাদের আসলে কি কি গুনাবলি থাকা দরকার। চলুন, দেখে নিই আমাদের আজকের শিক্ষণীয় বিষয় গুলো……

১।  কিউরিসিটিঃ

আপনারা সবাই জানেন যে, MBA করে অনেকেই লবিং বা ঘুষ দিয়ে জব নিচ্ছে! এটা বড় দুঃখের বিষয়। বর্তমানে, বাংলাদেশে MBA করে অনেক কম্পিটিশন করে পরীক্ষা দিয়ে এর পরে লবিং লাগিয়ে একটা ব্যাংকে চাকুরী পেতে আপনাকে যে পরিমান পড়া লাগবে তা বলার বাইরে। তারপরে তাদের স্যালারি বা বেতন হবে ২৫ থেকে ৩৫ হাজার। আর প্রতিবছর ম্যাক্সিমাম ৫ হাজার টাকা বেতন বাড়ে। আপনি যদি ফ্রীল্যান্সিং করে ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারেন, তাহলে আপনাকে ভালো লাগবে। কিন্তু, আপনি কম পড়ালেখা করে, কম জেনে কাজের প্রতি আগ্রহ কম থেকে ইনকাম করতে পারবেন এইটা অসম্ভব। অনেকেই মনে করে, কোন ট্রেনিং সেন্টার থেকে ট্রেনিং নিয়ে ফাঁকিবাজি করে কোন মতে ট্রেনিং শেষ করেই হাজার হাজার ডলার ইনকাম করতে পারবেন। এইটা আসলে ভূল ধারনা। কোন কোচিং সেন্টার আপনাকে শুধু আপনার অজানা কিছু টার্ম এর নাম শিখিয়ে দিবে আর শেখার ওয়েটা শিখিয়ে দিতে পারে।  এই জন্যই তাদের আপনি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিবেন। আর নিজেরা বাকীটুকু শিখে ফেলতে হবে। আর শেখার জন্য আপনাকে অবশ্যোই জানার প্রতি আগ্রহ এবং শেখার প্রতি আগ্রহ বা কিউরিসিটি থাকতে হবে। আপনাকে একজন যা শিখিয়ে দিলো তাই শিখে বসে থাকলেন, তাহলে আপনার দ্বারা কিচ্ছু হবেনা। একজন কিছু একটা শিখিয়ে দিলো আর আপনি তা হাতরে হাতরে , ঘেটে ঘেটে আরো কিছুদুর নিজেই শিখে ফেললেন এইরকম যদি হন তাহলে আপনি ফ্রীল্যান্সার হইতে পারবেন। তা না হইলে আপনি নিজেকে নিয়ে অগ্রসর হতে পারবেন না।

২। শেখার জন্য যথেষ্ট টাইমঃ

আমার কাছে অনেকেই আসে। অনেকেই বলে ফেলে, ভাই আমার শেখার টাইম নাই। আপনি আমাকে শর্ট কার্ট সিস্টেম বলে দিন। আমি ঐটা ইউজ করে অন্তত ১ হাজার ডলার ইনকাম করতে পারি, এইরকম রাস্তা বের করে দিন। অনেকেই আমার সাথে ফেইস টূ ফেইস করতে এসে এইসব কথা বলে। আসলে আপনার যদি শেখার জন্য যথেষ্ট টাইম না থাকে আপাতত এই খানেই স্টপ করে দিন। শেখার জন্য টাইম যেদিন ম্যানেজ করতে পারবেন সেদিন শুরু কইরেন। অনেকেই জব করে, জব থেকে বাসায় এসে পরিবারে টাইম দেয় এই কারনে শিখতে পারেন না। যারা শেখার পিছনে টাইম দেওয়ার থেকে পরিবারে টাইম দিতে ভালোবাসেন, তাদের বলতেছি… ভাই বর্তমানে যেই জব আছে সেটা দিয়েই তো সুখে সাচ্ছন্দে চলে যাচ্ছে কি আর দরকার এইদিকে আসা, বাদ দিন না। অনেকেই দেখা যায় একাডেমিক পড়ালেখা করে আবার বন্ধুদের সাথে নিয়মিত আড্ডা দেয় আবার ফ্রীল্যান্সিং এ টাকাও কামাইতে চায়। তাদের বলতেছি, ভাই প্লিজ এইদিকে আসবেন না। যতদিন এইটাকেই পেশা হিসাবে নিতে না পারতেছেন ততদিন আসবেন না, প্লিজ।

৩। শেখার জন্য ভাষাঃ

আমি বলি, অনেকেরই কিউরিসিটি আছে আবার টাইম আছে। আমাকে বলে, ভাই আমাকে কিছু বাংলা টিউটোরিয়াল দিন, যাতে শিখতে পারি। তাদের বলি ভাই, যদি ইংরেজীতে পড়ালেখায় মনোযোগ না আসে তাহলে আপাতত বাদ দিন। আপনি কাজ করবেন ইংরেজীতে, ক্লাইন্ট কথা বলবে ইংরেজীতে টাকা নিবেন ডলারে আবার বাংলা চান। একটা কথা মনে রাখবেন, আপনি যদি ফ্রীল্যান্সিং এ আস্তে চান আপনি চিন্তাও করবেন ইংরেজীতে। আপনি যদি কাউকে মারার প্লান করেন তাহলে এইভাবে চিন্তা করবেন, আই উইল বিট হিম অ্যাট সেভেন পি.এম। আপনি ইংরেজীতে যদি দক্ষ না হোন, তাহলে বেশীদুর এগুতে পারবেন না। আপনার ফ্লুয়েন্টলি আমেরিকান ইংলিশ বলতে হবেনা। কিন্তু, আপনাকে তাদের ইংরেজী পড়ে ও শুনে বুঝতে হবে। কিছু বাংলা টিউটোরিয়াল আপনার স্টাটিং এর সহায়ক হইতে পারে। তবে, আলটিমেটলি আপনাকে ইংরেজীতেই আস্তে হবে। আপনি যদি নামাজ পড়েন, কিন্তু সুরা কেরাত যদি বাংলায় পড়েন তাহলে কি নামাজ হবে ? অবশ্যই  হবে না। কিন্তু, নিয়ত তা বাংলায় পড়লেও হবে। আরবিতে যেহেতু আস্তেই হবে, নিয়তটাও আরবিতে শিখে নিলেই তো হয়। এইরকম সব কিছু তো আপনাকে ইংরেজীতে করতেই হবে।

৪। মেনটালি পিছুটানঃ

আপনার যদি মেন্টালি ডিপ্রেস হওয়ার জন্য যথেষ্ট উপাদান যেমন ঝামেলা পূর্ন গার্লফ্রেন্ড, রাজনীতি, সোসাল ওয়ার্ক ইত্যাদি থাকে তাহলে বাদ দিন। আপনার দ্বারা হবেনা।

আপনার যদি কাজ না শিখেই হাজার হাজার ডলার কামানোর ইচ্ছা থাকে তাহলে আপনি আপাতত বাদ দিন। যারা আজকে হাজার হাজার ডোলার ইনকাম করে তারা একদিন মাত্র ৫ থেকে ১০ ডলার ইনকাম করতো। আমার প্রথম ইনকাম ছিলো ৫ ডলার। এখন যদি, আপনি আমার বর্তমান ইনকামের সমান ডলার ইনকাম চিন্তা করেন তাহলে তো হবেনা । আপনাকে ২৫ ডলার বা তার থেকে কম ইনকামের চিন্তা করতে হবে। আর টাকার পিছনে ছোটা যাবে না।

আপনারা কথা মত কাজ করবেন।  আর নিজের ইচ্ছায় শেখার চেষ্টা করবেন। আশা করি, খুব দ্রুত ডলার উরে উরে এসে আপনার একাউন্টে ঢুকবে। কিন্তু, যদি তা না করেন তাহলে টাইম, মানি সব কিছুই লস আর একটা স্বপ্নের মৃত্যু ঘটবে। তবে, শেষে আপনাদের একটা কথা বলি… কখনই নিজেকে নিয়ে টেনশন বা দুশ্চিন্তা করবেন না। মনে সাহস নিয়ে এগিয়ে যান সামনে, দেখবেন লক্ষ্যস্থলে পৌছাবেন!!

কন্টেন্ট ক্রেডিটঃ Russell Ahammad

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY