ব্যবসায়ের নতুন পদক্ষেপে ব্যর্থতার সাধারণ কারণ সমূহ

ব্যবসায়ের নতুন পদক্ষেপে ব্যর্থতার সাধারণ কারণ সমূহ

আপনাদের সবার জানা উচিৎ ব্যবসায় নতুন পদক্ষেপে ব্যর্থতার সাধারণ কারণ গুলো।  আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের ব্যবসায়ের উন্নয়নের জন্য কাজ করি। আমাদের প্রচেষ্টা থাকে যে, কিভাবে আমাদের ব্যবসাকে আরো উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়া যায়। কিভাবে আমাদের গ্রাহক বা কাস্টমার বৃদ্ধি করে মুনাফা বৃদ্ধি করা যায় এবং ব্যবসায়ে উন্নয়ন করা যায়। ব্যবসায়ের উন্নয়নে আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করি। কখনও সেই পদক্ষেপ সফল হয় আবার কখনও ব্যর্থ হয়। সফল হওয়ার পিছনে যেমন রয়েছে অনেক কারণ তেমনি ব্যর্থ হওয়ার পিছনেও রয়েছে কিছু বিশেষ কারণ। আমি ব্যর্থতার কিছু সাধারণ কারণ নিয়ে নিচে বিশদভাবে জানিয়ে দিলাম……

 

  ব্যবসায়ের নতুন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে নিদির্ষ্ট কাউকে দায়িত্ব না দেওয়াঃ

কোন একটি ব্যবসায়কে উন্নয়নের জন্য যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় তার জন্য নির্দিষ্ট লোক কে নিয়োগ করাটা অনেক জরুরী। অনেক ব্যবসায় এর ক্ষেত্রে এই ভুলটি দেখা যায় যে, যখন নতুন কোন ব্যবসায়ের ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করা হয় বা নতুন কোন কাজয়ের ক্ষেত্রে পুরনো কর্মচারীকে দায়িত্ব দিয়ে কাজ করিয়ে ফেলার চিন্তা করা হয়। ফলে সে কোন কাজই ভালো ভাবে করতে পারে না। সে তার সৃজনশীলতা কে ব্যবহার করতে পারে না, নতুন নতুন আইডিয়া বের করতে পারে না। সাম্প্রতিক, সময়ে ব্যবসায় এর ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা ডিজিটাল মার্কেটার এর পোষ্টয়ের জন্য নতুন কাউকে না নিয়ে অফিসয়ের পুরনো কেউ যিনি একটু ভালো ফেসবুক ব্যবহার করতে পারে, তাকেই কাজটি করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছেন। যদি আপনার জন্য কোন একজন কে আলাদা ভাবে দায়িত্ব দেয়ার ক্ষমতা না থাকে তাহলে সময়কে ভাগ করে নির্দিষ্ট করে দিন। সেই সময়ে শুধু নতুন পদক্ষেপটি নিয়ে কাজ করবে। তাহলে, ব্যবসায় উন্নয়নের নতুন পদক্ষেপটি সফলতার সাথে সম্পন্ন হবে।

 

  আপনি যার কাছে মার্কেটিং করছেন, তার কোন সঠিক তথ্য না থাকাঃ

আমরা অনেক সময় কাস্টমার বা গ্রাহক সম্পর্কে ভালো ধারনা না নিয়েই মার্কেটিং শুরু করে দেই। এর ফলে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাই না। যার কারণে আমাদের নতুন ব্যবসায়ের কৌশল বা মার্কেটিং পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। কারণ,আপনি জানেন না যে আপনার গ্রাহক কারা এবং তাদের পছন্দ-অপছন্দ এবং তার উপর নির্ভর করে কোন অফার দিতে পারছেন না। যখন আপনি আপনার কাস্টমার বা গ্রাহক সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা পেয়ে যাবেন তখন বিভিন্ন ভাবে তাদের কাছে মার্কেটিং করতে পারবেন এবং আপনার সফলতা নিয়ে আসতে পারবেন।

প্রতিযোগীদের সম্পর্কে না জানাঃ

প্রতিটি ব্যবসায়ের প্রতিযোগী থাকে এবং থাকাটা প্রয়োজনও বটে। কিন্তু,আপনি যদি আপনার ব্যবসায়ের প্রতিযোগীদের সম্পর্কে সচেতন না থাকেন তাহলে তারা আপনার নতুন ব্যবসায় প্রোগ্রাম বা পরিকল্পনার জন্য হুমকি স্বরূপ হতে পারে। আপনাকে জানতে হবে আপনার প্রতিযোগী কারা, তারা গ্রাহক বা কাস্টমারদের কি অফার করে, তাদের সামর্থ্য ইত্যাদি। এর জন্য যে আপনার খুব বেশি টাকা বা সময় খরচ হবে তা নয়। কিন্তু, আপনি কিভাবে প্রতিযোগীদের মাঝে টিকে থাকতে হবে তা জানতে পারবেন।

  কথা কম, কাজ  বেশিঃ

যে কোন ব্যবসায় একটি প্রবণতা প্রায় সবার মাঝেই লক্ষ্য করা যায় যে, গ্রাহক বা কাস্টমারের কাছে নিজেদের সম্পর্কে বেশি কথা বলা। এই প্রবণতার কারণে ২টি সমস্যা হতে পারে। প্রথম সমস্যা, কাস্টমার বা গ্রাহক বিরক্ত হয়ে নেতিবাচক ধারনা পোষণ করতে পারে। দ্বিতীয় সমস্যা, অযথা কথা বলে প্রয়োজনীয় বিষয় উল্লেখ করতে ভুলে যেতে পারেন।
তাই গ্রাহকে পণ্য বা সার্ভিস সম্পর্কে সংক্ষেপে প্রধান বিষয় গুলো তুলে ধরেন। বলেন যে, কেন আপনাদের সার্ভিস গ্রহন করা উচিৎ এবং গ্রহণ করলে তার কি লাভ হবে ইত্যাদি। অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসায় হলে সংক্ষেপে কন্টেন্ট এর মাধ্যমে বুঝানোর চেষ্টা করুন ।

  কাস্টমার বা গ্রাহকের উদ্দেশ্য গভীরভাবে বোঝতে না পারাঃ

আপনাদের জানিয়ে দেই ব্যবসায় উন্নয়নে নতুন পদক্ষেপ ব্যর্থ হওয়ার আরেকটি কারণ হল, ব্যবসায়ের গ্রাহকের বা কাস্টমারদের ইচ্ছা, চাহিদা সম্পর্কে গভীর ভাবে না জানা। অনেকে কাস্টমার সম্পর্কে কিছু ধারনা না নিয়েই ব্যবসায়য়িক কার্যক্রম শুরু করে দেয়। যারা সার্ভিস বিক্রয় করে তাদের মাঝে দেখা যায় তারা Client-দের ব্যবসায়ের প্রধান শক্তি বা অন্যান্য ব্যবসায় থেকে তাদের পার্থক্য ইত্যাদি সম্পর্কে হালকা কিছু ধারনা নিয়ে ব্যবসায় শুরু করে। যার ফলে একসময় তাদের সকল কার্যক্রম ব্যর্থ হয়। শুধু নিজের সার্ভিস না অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সার্ভিসের কোন দিক গুলোও গ্রাহক গ্রহন করে, কেন গ্রহন করে তা জানতে হবে।

  ব্যর্থ হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ না করাঃ

আমরা ব্যবসায়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করার পূর্বে আগের যে পদক্ষেপটি ব্যর্থ হয়েছিল তা বিশ্লেষণ না করেই নতুন পদক্ষেপ নিয়ে কাজ শুরু করে দেই। আপনি যদি ব্যর্থ হওয়ার কারণ না খুঁজেন তাহলে আবার সেই ভুল করার সম্ভবনা থাকে। যদি আপনার Client কোন একটি প্রোপজাল রিজেক্ট করে দেয় তাহলে তার কারণ বের করতে হবে। তা নাহলে হয়ত আবার আপনার প্রোপজাল ব্যর্থ হতে পারে। ঠিক একই কথা প্রযোজ্য গ্রাহক বা কাস্টমারদের জন্য। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আপনারা ব্যবসায়ে কিভাবে উন্নতি করা যাবে তা পেয়ে গেছেন।