SHARE

আপনি এই আর্টিকেলটি পড়ে জানতে ও বুঝতে পারবেন, এসইও এর জন্য কিভাবে প্রতিযোগীদের গবেষণা করতে হয়। আপনি একজন ভালো এসইও এক্সপার্ট তখনই হতে পারবেন, যখন আপনি আপনার সঠিক কম্পেটিটর খুঁজে বের করতে পারবেন। আপনার নির্বাচিত কীওয়ার্ডের সার্চ রেজাল্টে কে টপে আছে বা কে আপনার টার্গেট করা কীওয়ার্ডে খুব ভালো ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা জানতে পারবেন। আপনাকে দেখতে হবে, তাদের ওয়েবসাইট কোন দিক দিয়ে আপনার ওয়েবসাইট থেকে এগিয়ে অথবা তারা কিভাবে এসইও করছে। জানতে পারবেন,কোন কোন মাধ্যমে তারা ভিজিটর পাচ্ছে। তাদের ব্যাকলিঙ্কের পরিমাণ কত, এই সকল বিষয় গুলো জানলেই আপনার প্রতিযোগীকে বিশ্লেষণ করা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গুলো সঠিক ভাবে নিতে পারবেন।

১. খুঁজে বের করুন, কে আপনার কম্পেটিটরঃ

অফলাইন ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে প্রতিযোগীকে খুঁজে পাওয়াটা সহজ হলেও অনলাইন এর ক্ষেত্রে এসইও করার জন্য প্রতিযোগী খুঁজে পাওয়া প্রায়ই অনেক কঠিন হয়। কারণ,আপনি জানেননা আপনার প্রতিযোগী কিভাবে আপনার সাথে প্রতিযোগিতা করছে। তারা হতে পারে একই নিশে কাজ করে আপনার প্রতিযোগী, অথবা কেউ কোন Long Tail Keyword এর মাধ্যমে আপনার সাথে প্রতিযোগিতা করছে। সে জন্য আপনার টার্গেটেড কীওয়ার্ড দিয়ে গুগল সার্চ করেন এবং দেখেন কারা সার্চ রেজাল্টের টপ লেভেলে আছে। আপনি তাদের নিয়েই কাজ শুরু করেন।

২. প্রতিযোগীদের সাইট ভিজিট করুনঃ

আপনার কাজ প্রতিযোগীদের সাইট লিষ্ট করার পর হল সেই সাইটগুলো ভিজিট করা। এ ক্ষেত্রে আপনাকে দেখতে হবে তাদের সাইট কিভাবে তৈরি করার হয়েছে, কতটুকু সময়ের মধ্যে তাদের সাইট লোড হয়। তার পর আপনাকে দেখতে হবে তাদের কন্টেন্ট কি পরিমানের আছে, কন্টেন্ট এর কোয়ালিটি কেমন, কোন কোন কীওয়ার্ডের দিকে বেশি গুরত্ব দিয়েছে ইত্যাদি বিষয় গুল। আপনি কন্টেন্টকে সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিন। একটি ওয়েব সাইট বিশ্লেষণ এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন আপনার প্রতিযোগী কতটুকু শক্তিশালী, ওয়েব জগতে তাদের উপস্থিতি কতটুকু। তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হলে আপনাকে কতটুকু শক্তিশালী হতে হবে, আপনার কি পরিমান বিনিয়োগ করতে হবে ইত্যাদি।

৩. কীওয়ার্ড এনালাইসিস করুনঃ

আপানার প্রতিযোগীরা যদি ভালো ভাবে কীওয়ার্ড অপ্টিমাইজ করতে পারে তাহলে ওয়েবসাইট রেঙ্ক করার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই কোন কোন কীওয়ার্ড তারা টার্গেট করে তা আপনাকে জানতে হবে। কোন কোন কীওয়ার্ড তারা টার্গেট করেছে তা জানাটা একটু কঠিন। কারণ, আপনার কাছে যেই কীওয়ার্ড গুলো আপনার নিশের টপ মনে হলেও তার কাছে হয়ত তা মনে হচ্ছে না। যদি আপনি না জানেন তারা কোন কীওয়ার্ডে কাজ করছে, যদি আপনি শুধু কীওয়ার্ড ধারনা করে কাজ করেন তাহলে তা আপনার জন্য কোন কাজে লাগবে না। কোন কীওয়ার্ডের উপর প্রতিযোগী কাজ করছে তা সঠিক ভাবে বের করার জন্য বিভিন্ন পেইড টুল ব্যবহার করতে পারেন। পেইড টুল গুলো আপনাকে অনেক তথ্য দিবে যা দ্বারা সহজে বুঝতে পারবেন কোন কীওয়ার্ড দিয়ে কোন ওয়েবসাইট রেঙ্ক করছে। আপনি এর জন্য ব্যবহার করতে পারেন Spyfu, SEMrush ইত্যাদি পেইড টুল। এই টুল গুলো আপনার প্রতিযোগীর অনেক গুরুত্বপূর্ন তথ্য দিবে, কোন কোন প্রাইমারি কীওয়ার্ড বা Long Tail Keyword-এ ওয়েবসাইট র্যাবঙ্ক করছে তা প্রকাশ করবে।

৪. প্রতিযোগীদের ব্যাকলিঙ্ক চেক করুনঃ

ব্যাকলিঙ্কের মাধ্যমে বুঝা যায় র্যা ঙ্কিং এর মূল পন্থা। সে জন্য আপনার প্রতিযোগীদের ব্যাকলিঙ্ক গুলোকে ভালো ভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। আপনি দেখুন তাদের কতগুলো ব্যাকলিঙ্ক রয়েছে, ব্যাকলিঙ্কের জন্য কোন ধরনের ওয়েবসাইটকে প্রাধান্য দিয়েছে, তারা কোন রেঙ্কের টেক্সট ব্যবহার করেছে, কোথায় কোথায় ব্যাকলিঙ্ক তৈরি করেছে। তাহলে সঠিকভাবে ধারনা করতে পারবেন তারা আপনার থেকে কতটুকু শক্তিশালী। তাছাড়া, তাদের ব্যাকলিঙ্ক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আপনার নিজের ওয়েবসাইটের ব্যাকলিঙ্ক করারও একটি ভাল ধারনা পাবেন। তারা যদি জনপ্রিয় সাইট গুলোতে ব্যাকলিঙ্ক করে তাহলে আপনাকেও তাই করতে হবে। ব্যাকলিঙ্ক বিশ্লেষনের জন্য অনেক জনপ্রিয় পেইড এবং ফ্রী টুল রয়েছে। Smallseotools.com এ গিয়ে ফ্রী আপনার প্রতিযোগীর অনেক ব্যাকলিঙ্ক দেখতে পারবেন এবং পেইডের জন্য ব্যবহার করতে পারেন Ahrefs.com বা majestic.com। এই দুটি টুল অনেক জনপ্রিয় টুল। এই টুল গুলোর মাধ্যমে দেখতে পারবেন কোন কোন ডোমেইনে প্রতিযোগী ব্যকলিঙ্ক করেছে, তার পরিমানসহ আরো গুরুত্বপূর্ন অনেক তথ্য।

৫. ফ্যাক্টর গুলো বিশ্লেষণ করুনঃ

কীওয়ার্ড ছাড়াও আরও অনেক গুলো গুরুত্বপূর্ন র্যাঙ্কিং ফেক্টর রয়েছে। সেই রেঙ্কিং ফ্যাক্টর গুলো বিবেচনা করতে হবে এবং ভালো ভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। আপনাকে দেখতে হবে তাদের ওয়েবসাইটের কতগুলো পেজ ইন্ডেক্স হয়েছে, তারা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে কেমন কাজ করছে ইত্যাদি। প্রয়োজনে আপনি গুগল এর প্রধান র্যাঙ্কিং ফেক্টর গুলো দেখে নিন। সেই ফ্যাক্টর গুলোর অনুযায়ী আপনার প্রতিযোগীর ওয়েবসাইট বিশ্লেষণ করুন।

৬. সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রতিযোগীদের উপস্থিতি বিশ্লেষণ করাঃ

আপনারা জানেন যে,সোশ্যাল মিডিয়া হল সার্চ ইঞ্জিন রেঙ্কের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ন ফ্যাক্টর। গুগল একটি ওয়েবসাইট র্যাঙ্ক, জার মাধ্যমে আপনার প্রতিযোগীদের সোশ্যাল মিডিয়াতে কেমন উপস্থিতি তা দেখতে হবে। কোন সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদের বেশি উপস্থিতি, তারা টার্গেট করছে বা বেশি ভিজিটর পাচ্ছে, তা আপনাকে বিবেচনা করতে হবে বা জানতে হবে।
৭. তারা পিপিসি ব্যবহার করছে কি না?
আপনার প্রতিযোগী কি পেইড অ্যাড বা পিপিসি ব্যবহার করছে কি না। প্রতিযোগীদের বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে একটি বিষয় অবশ্যই জানতে হবে, পিপিসি একটি ওয়েবসাইটে সরাসরি ভিজিটর নিয়ে আসে যা অনেক দ্রুত কাজ করে। আপনি নিজেই জানেন যে, গুগল হচ্ছে একটি আদর্শ ওয়েবসাইট যার মাধ্যমে সহজে লাভজনক ভিজিটর নিয়ে আসা যায়। তাই দেখুন আপনার প্রতিযোগী কি পেইড মার্কেটিং বা পিপিসি করছে কি না। যদি তারা পেইড মার্কেটিং করে তাহলে আপনাকেও সেই ভাবে এসইওর পরিকল্পনা করতে হবে।

পরিশেষে, আশা করি আর্টিকেলটি অনুধাবন করে সু-ফলাফল বয়ে নিয়ে আসবেন! এই শুভকামনা ও প্রত্যশায় আজকের মত বিদায় নিলাম।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY