টুইটারে এঙ্গেজমেন্ট বৃদ্ধি করার ১১টি সহজ মাধ্যম!

টুইটারে এঙ্গেজমেন্ট বৃদ্ধি করার ১১টি সহজ মাধ্যম!

আজ আমি আপনাদের নিকট কিভাবে টুইটারে এঙ্গেজমেন্ট বৃদ্ধি  করা যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করব। টুইটার অনলাইন মার্কেটিংয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া এবং এর জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। বর্তমানে, ব্যবসাকে প্রচার করার জন্য এটি ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সব ধরণের ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে টুইটার গ্রাহকের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে পণ্য বা সার্ভিস বিক্রিতে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করছে। তাই, ছোট বড় সকল ব্যবসায়ীরা টুইটার মার্কেটিং করছে অথবা মার্কেটিং এর জন্য মার্কেটার নিয়োগ করছে। টুইটারে ভালো ফলাফল পেতে আপনাকে অবশ্যই ফলোয়ারদের সাথে এঙ্গেজ থাকতে হবে। আপনি যত বেশি এঙ্গেজমেন্ট বৃদ্ধি করতে পারবেন ততই পণ্য বা সার্ভিস সেল করতে পারবেন । নিচে নিয়ম গুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করুন…

ফলোয়ারদের উৎসাহিত করুনঃ

কিছু কিছু কাজ মানুষকে সরাসরি প্রভাবিত করে। তার মধ্যে অন্যতম হল উৎসাহ। আপনি আপনার ফলোয়ারদের বিভিন্ন ভাবে উৎসাহিত করুন। এটি সরাসরি এঙ্গেজমেন্ট বৃদ্ধি করে। কেউ যদি কমেন্ট করে যে “পণ্য কিনলাম, দেখি ব্যবহার করে কেমন হয়” তখন আপনি তাকে টুইট করতে পারেন যে “ধন্যবাদ, আশা করি আপনার ভালো লাগবে”। তাহলে  ফলোয়ারদের সাথে আপনার এঙ্গেজমেন্ট বৃদ্ধি পাবে।

ফলোয়ারদের তথ্য রিটুইট করাঃ

প্রাকৃতিকভাবেই প্রত্যেক মানুষ প্রাধান্য বা স্বীকৃতি পেতে পছন্দ করে। ঠিক তেমনি ফলোয়ারদের স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে তাদের সাথে এঙ্গেজমেন্ট অনেক বেশি বৃদ্ধি করা যায়। সে জন্য মাঝে মাঝে ফলোয়ারদের প্রাসঙ্গিক এবং তথ্যবহুল কন্টেন্ট রিটুইট করতে পারেন। তাহলে ফলোয়ারদের কন্টেন্টের প্রতি মূল্যায়ন করা হয় এবং স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ফলে ফলোয়ারদের সাথে দ্রুত এঙ্গেজমেন্ট বৃদ্ধি পায়। পৃথিবীর বড় বড় সকল কোম্পানী বা মার্কেটাররা অনলাইন বা টুইটার মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে এই কৌশলটি সফলতার সাথে ব্যবহার করে। তবে রিটুইট করার পূর্বে তার প্রোফাইল চেক করে নিবেন এবং কন্টেন্ট অবশ্যই আপনার সার্ভিস বা ব্যবসায়ের সাথে প্রাসঙ্গিক হতে হবে।

.   “#Tag” ব্যবহার করুনঃ

অনলাইন মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে  “#Tag” এর ব্যবহার আমরা প্রায় সবাই জানি। ঠিক তেমনি এঙ্গেজমেন্ট বৃদ্ধিতে টুইটারেও “#Tag” ব্যবহার একটি কার্যকরী পদ্ধতি। তাই ফলোয়ারদের মনোযোগ আকর্ষন করতে একটি “#Tag” ক্যাম্পেইন তৈরি করুন। ক্যাম্পেইন তৈরির পূর্বে অবশ্যই এর লক্ষ্য নির্ধারন করে নিবেন এবং লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করবেন। ক্যাম্পেইন যেন কখনই কাস্টমার এবং আপনার পণ্য বা সার্ভিসের বাহিরে না হয়। তারপর দেখুন আপনার ফলোয়ার কি বলছে। তারা ক্যাম্পেইনের প্রতি কেমন সাড়া দেয়। তাদের সাড়া  অনুযায়ী আপনিও তাদের প্রতি সাড়া দিন।

.  সমস্যার সমাধান জাতীয়  লিঙ্ক পোষ্ট করুনঃ

শুধু টুইটার মার্কেটিং না সকল প্রকার অনলাইন মার্কেটিং এ এঙ্গেজমেন্ট বৃদ্ধি করার জন্য সবচেয়ে ভালো যে পদ্ধতি সেটা হল কোন সমস্যার সমাধান পোষ্ট করা এবং তাদের সমস্যার সমাধান করা। এর মাধ্যমে আপনার ব্রান্ডকে  দ্রুত তাদের জীবন পরিচালনার সাথে সম্পর্কিত করা যায় এবং ব্রান্ডের সাথে ফলোয়ার সম্পর্ক আরও মজবুত হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোন খাবারের ব্যবসায়ী রান্না সম্পর্কিত টিপস দিতে পারে, ভালো রান্নার বই এর ধারণা দিতে পারে, খাবার কিভাবে দীর্ঘ সময় ভালো রাখা যায় তা বলতে পারে। আপনার ফলোয়ার কোন ধরনের সমস্যার সমাধান পছন্দ করে তা জানার জন্য মাঝে মাঝে তাদের প্রোফাইলে দেখতে পারেন। তারপর সেই অনুযায়ী কন্টেন্ট তৈরি করে আপনার ব্লগে পোষ্ট করুন। তারপর সেই লিঙ্ক টুইটারে শেয়ার করুন। দেখবেন এঙ্গেজমেন্ট অনেক বৃদ্ধি পাবে।

.  কন্টেস্ট পরিচালনা করাঃ

আমি আপনাদের জানিয়ে দেই যে, অনেক সময় দেখা যায় ফলোয়াররা পোষ্টে আর আগের মত সাড়া দিচ্ছে না। আপনি আপনার ফলোয়াররাদের এঙ্গেজমেন্ট আরও বৃদ্ধি করতে চান। তখন ফলোয়ারদের জন্য একটি কন্টেস্ট চালু করে দিন। সেই কন্টেস্টটি অবশ্যই একাধিক সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার করুন।
.  কাস্টমারদের প্রশ্নের সাড়া দেওয়াঃ

একটি ব্যবসায়ের কাস্টমারদের প্রশ্নের বা জিজ্ঞাসার কখনও শেষ নেই।  কারণ, প্রতিনিয়ত সার্ভিস বা পণ্য আপডেট হতে থাকে আর তাদের প্রশ্ন তৈরি হতে থাকে।  তাই আপনি যদি আপনার টুইটারে এঙ্গেজমেন্ট বৃদ্ধি করতে চান তাহলে কাস্টমার বা গ্রাহকের বিভিন্ন প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসার প্রতি সাড়া দিতে হবে। আপনি চাইলে বিভিন্ন  ভাবে তদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন। কখনও ভিডিও পোষ্ট করে, কখনও আর্টিকেল এর লিঙ্ক পোষ্ট করে। প্রায়ই দেখা যায় ফলোয়াররা মেসেজে বিভিন্ন প্রশ্ন করে। তাদেরকে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন। আবার অনেকে কমেন্টের মাধ্যমে প্রশ্ন করে। তাদেরকেও কমেন্টের মাধ্যমে উত্তর দিন। এতে  অন্যান্য ফলোয়াররাও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে আর আপনার এঙ্গেজমেন্ট বৃদ্ধি পাবে।

৭.  লিঙ্ক বিহীন টুইটে এঙ্গেজমেন্ট বেশি হয়ঃ

জরিপ করে  দেখা গেছে, যে টুইট গুলোতে কোন লিঙ্ক থাকে না তার এঙ্গেজমেন্ট বেশি হয়। তাই সব টুইটেই লিঙ্ক যুক্ত করবেন না। যদি আপনি টুইটারে কম লিঙ্ক শেয়ার করেন তাহলে ফলোয়ারদের মাঝে আপনার ভ্যালু বৃদ্ধি পাবে। তারা লাইক এবং রিটুইট বেশি করবে। টুইটার ব্রান্ড জনপ্রিয় করার জন্য একটি বড় মাধ্যম। তাই চেষ্টা করুন কিভাবে আপনার ফলোয়ার বা কাস্টমারদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করার।

৮.  টুইটে Quote ব্যবহার করুনঃ

একটি Quote একটি টুইটের ভ্যালু অনেক বৃদ্ধি করে দেয়। তাই মাঝে মাঝে টুইটে Quote ব্যবহার করুন। চেষ্টা করবেন Quote আপনার নিশের মধ্যে রাখতে। যদি আপনার নিজস্ব Quote থাকে তাহলে তাও ব্যবহার করতে পারতেন।

 ৯.  সঠিক সময়ে পোষ্ট করুনঃ

ইন্টারনেট মার্কেটিং এ কাস্টমারের অবস্থান জানাটা অনেক জরুরী। কোথায় কোন কাস্টমার রয়েছে, তারা কখন টুইটার ব্যবহার করে তা জেনে টুইট করলে মার্কেটিং সফল হবে। তাই পোষ্ট করার পূর্বে টুইটার এনালাইটিক ব্যবহার করে দেখে নিন আপনার ফলোয়ার বা কাস্টমার কোন দেশে অবস্থান করছে এবং কোন সময়ে টুইটারে তারা বেশি সময় ব্যয় করতে পছন্দ করে।
১০.  জনপ্রিয় টুইট গুলো বিশ্লেষণ করুনঃ

কার্যকরী টুইট তৈরি করার জন্য ভালো একটা পদ্ধতি হল আপনার পূর্বের টুইট গুলো নিয়ে গবেষণা বা বিশ্লেষণ করুন। দেখুন কোন টুইটে ফলোয়াররা বেশি এঙ্গেজড হয়েছে। সেই টুইটে কোন ধরনের “#” ট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে, কোন ধরনের কন্টেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, কখন পোষ্ট করা হয়েছে ইত্যাদি। এই ধরনের বিশ্লেষনের মাধ্যমে ভালোভালো টুইট তৈরি করতে পারবেন।

১০. Valuable কন্টেন্ট রিটুইট করুনঃ

আপনার নিশের উপর যারা ভালো ভালো কন্টেন্ট টুইট করে, যাদের টুইট আপনার ফলোয়ার রিটুইট করার সম্ভাবনা থাকে তাদের একাউণ্টের একটি লিষ্ট করুন। মাঝে মাঝে তাদের পোষ্ট গুলো রিটুইট করুন। তাহলে ফলোয়ারদের সাথে এঙ্গেজমেন্ট বৃদ্ধি পাবে এবং ফলোয়ারও বৃদ্ধি পাবে।