যে ১০টি টুল ডিজিটাল মার্কেটিং-কে সহজ করবে!

যে ১০টি টুল ডিজিটাল মার্কেটিং-কে সহজ করবে!

মার্কেটিং এমন একটি বিষয় যা পরিপূর্ন ভাবে করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই মার্কেটিং কাজকে সহজ করতে অনলাইনে অনেক ফ্রী এবং পেইড টুল রয়েছে। যেই টুলের মাধ্যমে একজন মার্কেটার তার অনেক কাজ খুব সহজে এবং কম সময়ে করে ফেলতে পারে।

১. ওয়ার্ডপ্রেসঃ
মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ওয়ার্ডপ্রেস হল একটি বেসিক বিষয়। অনেকের কাছে মনে হতে পারে ওয়ার্ডপ্রেস আবার মার্কেটিং টুল হয় কি করে ? ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তো ওয়েবসাইট বানায়, আপনি ঠিক বলছেন ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট বানায়, কিন্তু একটু গভীর ভাবে চিন্তা করলে দেখবেন, এমন একটু ব্লজ্ঞিং সাইট যেখানে আপনার প্রোডাক্ট ধরণের উপর নির্ভর করে আর্টিকেল লেখা হয়, যেমন – ধরুন আপনি শাড়ি বিক্রয় করেন, তখন ঐ ব্লজ্ঞিং সাইট এ লেখা হলো কোন ধরণের কাপড় কিভাবে ধুতে হয়, কোন ধরণের কাপড় কেমন মাত্রায় স্ত্রি করতে হয়, কাপড় চেনার উপায়, বিভিন্ন নতুন ডিজাইন এর ধারণা ইত্যাদি এসব পড়তে আপনার কাস্টমার আসতে পারে আপনার ব্লগ এ এবং ওখানে আপনি আপনার ব্রান্ড এর মার্কেটিং করতে পারেন।
কেমন লাগলো ?
একটি ভালো ওয়েবসাইট বানাতে তো লেগে যায় অনেক টাকা, সেক্ষেত্রে আপনি নিজে শুধুমাত্র ব্লগ সাইট বানানোর উপায় জানলেই আপনার কাজটি হয়ে যাচ্ছে।

২. গ্রামার্লিঃ
আমাদের দেশের মার্কেটারদের একটি খুব সাধারন সমস্যা হল ইংলিশ গ্রামার। যেহেতু মার্কেটারদের বিভিন্ন স্থানে পোষ্ট করার জন্য ইংলিশ লেখালেখি করতে হয়। সেহেতু আমরা প্রায়ই এই সমস্যায় পরি। এই সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে দেওয়ার জন্য রয়েছে গ্রামার্লি। এটি ব্যবহার করার জন্য প্রথমে ব্রাউজারে ইন্সটল করতে হবে। তাহলে অনলাইনে যেকোন স্থানে ইংলিশে লেখালেখি করলে ইংলিশের ভুল গুলো দেখানো হবে এবং সঠিক বাক্য দেখাবে।

৩. গুগল ট্রেন্ডঃ
গুগল ট্রেন্ড মার্কেটারদের কাছে একটি অতি পরিচিত নাম। ব্যবসায়ের নতুন নতুন আইডিয়া পেতে, পণ্য সম্পর্কে আইডিয়া নিতে, বর্তমানে কোন কোন বিষয়গুলো মার্কেটে চলছে এই সকল বিষয়ের ধারনা পেতে গুগল ট্রেন্ড আপনাকে সাহায্য করবে। গুগল ট্রেন্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় এবং স্থান অনুযায়ী তথ্য পেতে পারেন।

৪. Bitly:
URL শর্টনারের মধ্যে যেই টুল গুলো রয়েছে তার মধ্যে বিটলি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। মার্কেটারদের তাদের কাজের মধ্যে বিভিন্ন সময় ওয়েবসাইটের লিঙ্ক শর্ট করতে হয়। শুধু URL শর্ট করার জন্য নয় আপনার লিঙ্ক কেমন পার্ফরমেন্স করছে তাও এই টুলের মাধ্যে দেখা যায়।

৫. Clicky:
Clicky হল আরেকটি এনলাইটিক টুল যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটের ভিজিটর সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। এটি একটি অন্যতম ইউজার ফ্রেন্ডলি এনালাইটিক টুল। সহজেই ক্লায়েন্টের ওয়েবসাইটের রিপোর্ট এই টুলের মাধ্যমে দিতে পারবেন। অনেক মার্কেটার রয়েছে যারা গুগল এনালাইটিকের চেয়ে এই টুল বেশি পছন্দ করে। এর একটি কারণ হচ্ছে Heatmaps, এর মাধ্যমে জানা যায় ভিজিটর কোন জোন এ বেশি সময় ব্যয় করেছে এবং ক্লিক করেছে ।

৬. Pixabay:
মার্কেটিং করবেন আর ছবি ব্যবহার করবেন না তাহলে তো ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে না। কাস্টমারের মনোযোগ আকর্ষন করতে কন্টেন্টের সাথে মিল রেখে ছবি দিতে হয়। কিন্তু যেকোন ছবি নিলে ওয়েবসাইট কপি রাইটে পড়তে পারে। কপি রাইট ফ্রী ছবির এক বড় উৎসের নাম হল Pixabay.

৭. AllTop:
ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ব্লগ পোষ্ট লেখার জন্য আমাদের অনেক রিসার্চ করতে হয়। এই রিসার্চের জন্য ব্লগ হচ্ছে সবচেয়ে উপযুক্ত সোর্স। নির্দিষ্ট কীওয়ার্ডের উপর পপুলার ওয়েবসাইট গুলোর টপ ব্লগ পোষ্ট গুলো খুজে বের করার জন্য যে টুল ব্যবহার করবেন তার নাম হল AllTop. প্রতি মুহূর্তেই এই ওয়েবসাইট আপডেট হচ্ছে। আপনি যে কোন Category এর উপর পপুলার ব্লগ পোষ্ট পাবেন।

৮. WooRank:
যারা এসইও নিয়ে কাজ করে তাদের প্রতিযোগী ওয়েবসাইটকে বিশ্লেষণ করতে হয়। নিজের ওয়েবসাইট বা ক্লাইন্টের ওয়েবসাইটের অডিট রিপোর্ট তৈরি করতে হয়। খুব সহজে একটি ওয়েবসাইটকে বিশ্লেষণ করতে বা অডিট রিপোর্ট তৈরি করতে একটি টুল ব্যবহার করতে পারেন তা হল WooRank. এই টুলের মাধ্যমে প্রতিযোগীর ওয়েবসাইটের বিভিন্ন তথ্য যেমনঃ র্যা ঙ্কিং হওয়া কীওয়ার্ড, H1 ট্যাগের পরিমান, alt text ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ন তথ্য জানা যায়।

৯. Hootsuite:
ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে লিডীং যেই সোশ্যাল মিডিয়া রয়েছে সেগুলো অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু এতগুলো সোশ্যাল মিডিয়াতে একসাথে পোষ্ট করা অনেক সময়ের ব্যাপার। দেখা যায় অনেক সময় আমরা চাইলেও ব্যস্ততার জন্য সকল সোশ্যাল মিডিয়াতে সময় দিয়ে পোষ্ট করতে পারি না অথবা সকল সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনা করতে পারিনা। এই সমস্যার সমাধান নিয়ে আসে যেই টুল তার নাম হল HootSuite. সময়মত আপনার নির্দেশ অনুসারে পোষ্ট হয়ে যাবে কন্টেন্ট সব গুলো সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট এ , কিন্তু বলে দেই, বর্তমানে সকল সোশ্যাল মিডিয়া চায় আপনি সরাসরি তাদের ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন, নয়ত আপনার পোষ্ট এর রিচ কমে যেতে পারে।

১০. Rapportive:
ইমেইল মার্কেটিং এর জন্য আমাদের ইমেইল সংগ্রহ করতে হয়। অনলাইন থেকে নেয়া ইমেইল অনেক ক্ষেত্রে ভুল হতেও পারে তখন আমাদের প্রয়োজন হয় ইমেইল চেক করার। এই ইমেইল চেক করার জন্য একটি জনপ্রিয় টুল হল Rapportive। এই টুল ব্রাউজারে ইন্সটল করে Gmail –এর Compose এ গিয়ে To তে অনলাইন থেকে নেয়া ইমেইল পেষ্ট করলে Rapportive আপনাকে দেখাবে কোন ইমেইল গুলো ঠিক আছে। Rapportive LinkedIn এর সাথে লিঙ্ক হয়ে কাজ করে। যদি ঐ ইমেইল দিয়ে LinkedIn অ্যাকাউন্ট থাকে তাহলে সেই অ্যাকাউন্টটি দেখাবে নয়ত দেখাবে না। মনে রাখবেন, আপনার LinkedIn অ্যাকাউন্ট সেই মুহূর্তে লগইন করা থাকতে হবে।